মাঝখানে মাত্র এক দিন। তারপরই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচ। যেটিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। এটা কি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কোনো সময় হলো!
ভারতের প্রথম ম্যাচ আগামী ৪ জুন। তাদের তাই কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাংলাদেশ কেন এই ম্যাচের সূচি নিয়ে আপত্তি তুলল না! এখন এই প্রশ্ন তুললে নির্ঘাত সেটির অন্য অর্থ করা হবে। ও, প্রস্তুতি ম্যাচে ভরাডুবি হয়েছে বলে এখন এই কথা বলা হচ্ছে, তাই না!
ভরাডুবিই তো! ৮৪ রানে অলআউট হয়ে ২৪০ রানের হার! ৫০ ওভারের ম্যাচ এর চেয়ে একতরফা হওয়া কঠিন। একসময় তো এর চেয়েও খারাপ কিছুর আশঙ্কা জেগেছিল। ৭.৩ ওভার পর স্কোরবোর্ডে ৬ উইকেটে ২২! সেই ৬ উইকেটও কিনা মাত্র ২৫ বলে! মেহেদী হাসান মিরাজ আর মুশফিকুর রহিম উইকেট পতনে একটু বাঁধ দিলেন। ২৫ রানের জুটি এমনিতে কিছুই নয়। অথচ সেটিকেই কাল কত বড়ই না মনে হলো! পরের জুটিতে মিরাজ আর সানজামুল তুললেন ৩০ রান। বাংলাদেশের ইনিংসে দুই অঙ্কের রান শুধু এই তিনজনেরই।
প্রথমে ব্যাটিং করে ভারত করেছে ৭ উইকেটে ৩২৪। সেটিও কারা করলেন! বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি, যুবরাজ সিং ব্যাটিংই করেননি। ওয়ানডেতে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির একমাত্র কীর্তি যাঁর, সেই রোহিত শর্মা রুবেলের প্রথম বলেই প্লেড অন হওয়ার আগে করতে পেরেছেন মাত্র ১ রান। অজিঙ্কা রাহানেও যখন মোস্তাফিজের বলে প্রায় একইভাবে আউট হলেন, ভারতের স্কোর ২ উইকেটে ২১। তারপরও রানটা এমন ফুলেফেঁপে উঠল কীভাবে!
বিখ্যাত ত্রয়ী ব্যাটিং না করায় পাওয়া সুযোগটা যে দুর্দান্তভাবে কাজে লাগালেন দীনেশ কার্তিক! ৭৭ বলে ৯৪ রান। সেঞ্চুরিটা না করে কেন ওই সময় রিটায়ার করলেন, তা একটা রহস্য বটে। রান বেশি করেছেন বলে কার্তিকের নামটা আগে বলা হলো। নইলে একসময় তিন শ ছোঁয়া নিয়ে সংশয় ঝেঁটিয়ে দূর করে ভারতকে আরও অনেকটা দূর নিয়ে গেলেন তো আসলে হার্দিক পান্ডিয়া। ৫৪ বলে ৮০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে নিজের দাবিটাও জানিয়ে রাখলেন এই অলরাউন্ডার। শেষ ১০ ওভারে ৯৭ রান তুলেছে ভারত। এর ৬৩-ই পান্ডিয়ার ব্যাট থেকে।
বাংলাদেশের বোলিংয়ে ভালোও ছিল, মন্দও ছিল। তাসকিন নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। বাঁহাতি স্পিনার সানজামুলও ভালোই মার খেয়েছেন। আবার রুবেল দারুণ বোলিং করেছেন। তরুণ মিরাজও তা-ই। মোস্তাফিজের প্রথম স্পেলটাও ভালো ছিল।
প্রস্তুতি ম্যাচের সুবিধা হলো, নিজেদের মতো করে সেটির ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। ভালো করলে এ থেকে পাওয়া মনস্তাত্ত্বিক সুবিধার জয়গান গাওয়া হয়। খারাপ করলে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে দেওয়া যায়, এটা তো নিছকই প্রস্তুতি ম্যাচ। ৮৪ রানে অলআউট হওয়ার পর খুব নিস্পৃহভাবে তা বলা কঠিন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে এসে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের তাই মেনে না নিয়ে উপায় থাকল না যে ব্যাটিংটা বড় হতাশাজনক হয়েছে। তবে ‘এটা প্রস্তুতি ম্যাচ, এত গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই’—এই সুরটা আগাগোড়া বজায় রাখলেন। যেমন ব্যাটিংয়ে যা হয়েছে, তা নিছকই দুর্ঘটনা। মাঝেমধ্যে এমন হয়ে যায়। সঙ্গে এক দিন পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসল খেলায় আর এমন হবে না বলে আশাবাদ।
রুবেল-মিরাজের বোলিং যদি ইতিবাচক দিক হয়, নেতিবাচক দিক ব্যাটিং, ব্যাটিং এবং ব্যাটিং। সঙ্গে ক্যাচ ফেলার কথাটাও আসতে পারে। বদভ্যাসটা এদিনও বজায় থাকল। আগের দুটি ম্যাচে নয়টি ক্যাচ পড়েছে। এদিন অবশ্য মাত্র দুটি। একটিতে আসামি মোসাদ্দেক, অন্যটিতে মুশফিক। দুটি ব্যর্থতার জন্যই বড় মূল্য দিতে হয়েছে। কারণ প্রথমবার ব্যাটসম্যান ছিলেন কার্তিক, দ্বিতীয়বার পান্ডিয়া।
তারপরও ৩২৪ নিয়ে এত ভাবিত হওয়ার কিছু ছিল না। প্রস্তুতি ম্যাচ তো প্রস্তুতির জন্যই। সেটিতে নানা হিসাব থাকে। সাকিব আল হাসান যেমন ২৭তম ওভারে আক্রমণে এসে মাত্র ৩ ওভার বোলিং করলেন। যদিও সেই ৩ ওভারেই দিয়েছেন ২৩ রান।
ও হ্যাঁ, সাকিবই ছিলেন এই ম্যাচের অধিনায়ক। নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বিশ্রাম নিয়েছেন। তামিম ইকবালও তা-ই। ম্যাচের আগে যে খেলোয়াড় তালিকা দেওয়া হলো, তাতে প্রতি দলে ১২ জন করে খেলোয়াড়। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের প্রস্তুতি ম্যাচটিতে ১৩ জন করে খেলেছে। এটিও ১২ জনের না ১৩ জনের ম্যাচ, তা নিয়ে অবশ্য বিভ্রান্তি থেকেই গেল। ১২ জনের বাইরে থেকেও যে বোলিং করলেন উমেশ যাদব!
ভুবনেশ্বর কুমারের সঙ্গে মিলে নতুন বলে ধ্বংসযজ্ঞটাও তিনিই চালালেন। বাংলাদেশের প্রথম ৬ উইকেট সমান ভাগ করে নিয়েছেন এই দুই পেসার। কাল সকাল থেকেই লন্ডনের আকাশ মেঘলা, সূর্য অনেকক্ষণ পরপর একটু উঁকি দিয়েই মেঘের আড়ালে লুকিয়েছে। পেস বোলিংয়ের জন্য আদর্শ এক পরিবেশ। তবে বল যে খুব বেশি কিছু করেছে, তা কিন্তু নয়। বাংলাদেশের ইনিংস হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ায় হাথুরুসিংহে শুধু ভালো বোলিংকে কারণ হিসেবে দেখাতে চাইলেন। যদিও বাজে ব্যাটিংয়ের বেশি না হলেও অন্তত সমান ভূমিকা তাতে। ইমরুল ও সাকিব যেমন বাউন্সার চালাতে গিয়ে আউট হলেন। সাব্বির জায়গায় দাঁড়িয়ে ড্রাইভ করতে গিয়ে। দু-একজন অবশ্য ভালো বলেরও শিকার। যেমন মোসাদ্দেক। বাংলাদেশের ইনিংসে তৃতীয় শূন্য! মোসাদ্দেকের আগে মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরেরও বিদায় শূন্য রানেই। এই মাঠে জীবনের শেষ টেস্ট ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। ওভালে কেউ শূন্য রানে আউট হলেই তাই সেটি মনে পড়ে যায়। তবে এভাবে ব্র্যাডম্যানের পাশে কেউ বসতে চায় নাকি!
বাংলাদেশও যেমন চায়নি, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে নামার মাত্র দুদিন আগে প্রস্তুতি ম্যাচটা এমন আত্মবিশ্বাস বিনাশী রূপ নিয়ে বুমেরাং হয়ে যাক!
ব্র্যাবোর্নে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতি শারদ পাওয়ার ট্রফিটা তুলে দিলেন রিকি পন্টিংয়ের হাতে। পঞ্চমবারের চেষ্টায় অধরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়। সর্বজয়ী অস্ট্রেলীয়দের যেন তর সইছিল না। ডেমিয়েন মার্টিন একটু ধাক্কা দিয়েই মঞ্চের এক পাশে সরিয়ে দিলেন শারদ পাওয়ারকে, ‘সরে যান, সরে যান, এখন উৎসবের সময়!’ পন্টিং-মার্টিন-ওয়াটসনরা ট্রফি নিয়ে নাচলেন, গাইলেন। কিন্তু ভারতের সংবাদমাধ্যমজুড়ে থাকল নমস্য ভারতীয় রাজনীতিক শারদ পাওয়ারের অস্ট্রেলিয়া দলের হাতে হেনস্থা হওয়ার খবর। ২০০৬ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি যে নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পেল অস্ট্রেলিয়াকে, সেই খবরটাই পেছনের পাতায়!
ভারতে ২০০৬ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কভার করার স্মৃতি হিসেবে ওই ঘটনাটাই মনে পড়ে যায় সবার আগে। আর মনে পড়ছে একটি ডোপিং কেলেঙ্কারির কথা। পরের দিন পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। জয়পুরের সোয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে দুই দলই চলে এসেছে সকালের অনুশীলনে। বাতাসে খবর ছড়িয়ে পড়ল, পাকিস্তানের দুই ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার ও মোহাম্মদ আসিফ পজিটিভ হয়েছেন ডোপ পরীক্ষায়। কিন্তু পাকিস্তান দলের সবার মুখেই কুলুপ। নিজেদের ক্রিকেট বোর্ডের বক্তব্য না পেলে এটি স্বীকার করতে চান না কেউ। না ম্যানেজার, না অধিনায়ক, না কোচ। সংবাদ সম্মেলনে এসে অতঃপর স্বীকার করলেন অধিনায়ক ইউনিস খান। এটি ছিল পিসিবির অভ্যন্তরীণ ডোপ পরীক্ষার ফল। শোয়েব-আসিফের নমুনা পাঠানো হয়েছিল কুয়ালালামপুরের পরীক্ষাগারে। ওই ম্যাচের প্রাক্কালে সেটিরই ফল জেনে যান মাজিদ ভাট্টি নামের এক পাকিস্তানি সাংবাদিক। ‘ব্রেকিং নিউজ’ দিয়ে ভাট্টি সেদিন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে বনে গেলেন মহাতারকা। মাঠের খেলায় অবশ্য প্রধানতম দুই পেসারের অনুপস্থিতিকে থোড়াই কেয়ার করল পাকিস্তান। সহজেই হারিয়ে দিল ফেবারিট শ্রীলঙ্কাকে।
এই দুটি ঘটনায় অনেকটাই বর্ণিত আসলে টুর্নামেন্টের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট। কিন্তু যে ছোট ক্যানভাসে বাংলাদেশ ছিল মোহালি, জয়পুর, আহমেদাবাদ ও মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে, সেখানে কিছু সুখের স্মৃতিও আছে। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের ১০ দলের শেষ চারটিকে নিয়ে প্রাথমিক পর্ব নামে টুর্নামেন্টের বাছাইপর্ব আয়োজিত হয় প্রথম। অবধারিতভাবেই ছিল হাবিবুল বাশারের বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ উঠে যায় মূল পর্বে। হাত ধরাধরি করে বাদ পড়ে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই জয়পুরে জয় পায় বাংলাদেশ।
১০১ রানের বিশাল জয়টি ছিল শাহরিয়ার নাফীসের অপরাজিত ১২৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের মাধুর্যমণ্ডিত, সঙ্গে ছিল তিন বাঁহাতি স্পিনারের নৈপুণ্য। বাংলাদেশের ২৩১ রানের পেছনে ছুটতে গিয়ে মোহাম্মদ রফিক, আবদুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসানের বাঁহাতি স্পিনে হাঁসফাঁস করে জিম্বাবুয়ে অলআউট ১৩০ রানে! ১০ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ওটাই বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র জয় পরিসংখ্যানের পাতায়। ওই জয় দিয়েই তখনকার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ‘পরাশক্তি’ হয়ে ওঠার শুরু। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওই ম্যাচেই হয়তো পায়ের ছাপ খুঁজে পায় টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির এক নম্বর অলরাউন্ডারকে। সাকিব আল হাসান যাঁর নাম। মাত্র চারটি আন্তর্জাতিক এক দিনের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে যিনি মোহালিতেই চার দিন আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছিলেন অপরাজিত ৬৭ রান। শ্রীলঙ্কার কাছে বাংলাদেশ সেদিন হেরেছিল ‘মাত্র’ ৩৭ রানে। প্রতিপক্ষ দলে যদি থাকেন জয়াসুরিয়া, সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে, দিলশান, মুরালিধরন, মালিঙ্গাদের মতো নাম, পরাজয়ের এই ব্যবধানকে মাত্রই মনে হয়।
সত্যি বললে, ওই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মনস্তাত্ত্বিক অর্জনও ছিল অনেক। সবচেয়ে বড় বোধ হয় এটাই—সেরা আট দলের একটি হয়েই একদিন যেতে হবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। এক পা এক পা করে এগিয়ে ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নাম লেখানো সেটিরই তো প্রমাণ।
কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে মোটেও হারটাকে পাত্তা দিতে রাজি নন। প্রস্তুতি ম্যাচে হারজিতকে পাত্তা দেওয়ার কী আছে! কিন্তু বছর দুয়েক ধরে জয়ের সঙ্গে অতি-পরিচিত হয়ে যাওয়া, জয়ে হাসা, জয়ে ভাসা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সহ্যই হচ্ছিল না। হার নয়, পোড়াচ্ছিল সেটির ধরন। হোক প্রস্তুতি ম্যাচ, তবু ৩৪১ রান করেও পাকিস্তানের সঙ্গে হারতে হবে! এ কেমন বোলিং!
ফেসবুক-টুইটার সয়লাব। কেউ বোলিংয়ের দায় দিচ্ছেন, কারও কাঠগড়ায় মাশরাফি বিন মুর্তজার অধিনায়কত্ব। এর মধ্যে কেউ কেউ বিকল্প একটা ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির: ‘ভাই, মোস্তাফিজ তো খেলেনি। ও থাকলে বাংলাদেশ জিততই!’
৩৪১ রান করেও ম্যাচ জিততে কোনো একজন বোলারের ওপর অতি-নির্ভরতা নয়, এ আসলে আপামরের ওই একটা নামে স্বস্তি খুঁজে নেওয়া। দলে ‘মোস্তাফিজুর রহমান’ নামটা দেখলেই একটু নড়েচড়ে বসা—আজ দেখা যাক, কী হয়! চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এবার বাংলাদেশের বোলিংয়ের মূল ভরসা কে, সেটি আর আলাদা করে বলতে হবে?
গতি কমে গেলেও এখনো প্রায় প্রতি ম্যাচেই এক-দুটি করে উইকেট, আর রান চেপে রাখার দায়িত্বটা পালন করে যাচ্ছেন মাশরাফি। সর্বশেষ দুই বছরে ২৪ ম্যাচে শুধু তিনটিতেই ছিলেন উইকেটশূন্য, ইকোনমি রেট ঠিক ৫। রুবেল হোসেনের গতি আর রিভার্স সুইং আছে, গতির ঝড় তুলতে পারেন তাসকিনও। তবু বাংলাদেশের পেস বোলিং বা পুরো বোলিং আক্রমণেরই ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ যদি বলা হয়, সেটি ওই মাত্র ১৮ ম্যাচের ‘অভিজ্ঞ’ মোস্তাফিজই।
২০১৫ সালের ১৮ জুন ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই ৫ উইকেট। এরপর থেকেই স্লোয়ারের মায়াজাল আর কাটারের বিভ্রান্তিতে মুগ্ধ করে যাচ্ছেন। ১৮ ম্যাচে ৪৩ উইকেট, ইকোনমি ৪.৬২। গত বছরটায় চোট বাগড়া বাধানোয় সাতটি ওয়ানডেতে খেলতে পারেননি। আফগানিস্তান-ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই সাত ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় তিনটিতে। আর মোস্তাফিজ খেলেছেন, এমন ১৮ ম্যাচে? জয় ১০টি!
ওয়ানডেতে তাঁর প্রথম বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট এটি। তবে ইংল্যান্ডে খেলার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তাঁর আছে—সাসেক্সের হয়ে কাউন্টিতে দুটি ম্যাচ! তবু এই অনভিজ্ঞ, কিন্তু দুর্দান্ত মোস্তাফিজেই ভরসা খুঁজবে বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটার উত্তর তাই একটাই—তামিম ইকবাল!
কী প্রশ্ন? চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের কার ব্যাটে সবচেয়ে বেশি ভরসা রাখা যায়? শুধু ব্যাটিং ব্যাকরণের পরীক্ষা যদি নেন, মুশফিকুর রহিমের চেয়ে বেশি নম্বর বাংলাদেশের কেউ পাবেন না। ধারাবাহিকতায় আবার সাকিব আল হাসান এগিয়ে থাকবেন। সৌম্য সরকারের ব্যাট যেন বদলে যাওয়া বাংলাদেশেরই প্রতীক। সাব্বির রহমানের নির্ভীক ব্যাটিং আশা দেখায় আগামী দিনের বাংলাদেশকে নিয়ে। কিন্তু তাঁরা কেউই আসলে তামিম নন!
একটা সময় তাঁর ব্যাট ছিল ঔদ্ধত্যের প্রতিশব্দ। তিনিও এত কিছু বুঝতে-শুনতে চাইতেন না। বোলারদের যেভাবে পারা যায় পেটানোই মনে করতেন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কিন্তু সেই তামিম আর এখনকার তামিমে অনেক পার্থক্য!
আগ্রাসনটা তামিমের মধ্যে এখনো আছে। কিন্তু সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছেন দারুণভাবে। বোলারদের পেটানোর কাজটা ভুলে যাননি একেবারেই। তবে পেটানোর মতো বল আর সময় বেছে নেওয়ায় এখন তিনি অনেক পরিণত। ঔদ্ধত্যের সঙ্গে এই বিচক্ষণতাই তামিমকে বানিয়েছে এই সময়ে দেশের সেরা ব্যাটসম্যান।
পরিসংখ্যান অবশ্য বলছে, শুধু সময়ের সেরা নন, তামিম বাংলাদেশের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। টেস্ট ও ওয়ানডে দুটিতেই দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান ও সর্বোচ্চ ইনিংস তাঁর। দুটিতেই আটটি করে সেঞ্চুরি, যা দেশের হয়ে সর্বোচ্চ। ওয়ানডেতে তামিম কমপক্ষে ফিফটি করেছেন, এমন ৪৪টি ম্যাচের ২৫টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। একা আর কোনো ব্যাটসম্যান কি বাংলাদেশের জয়ে এত বড় ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কখনো?
বিশেষ করে, গত প্রায় দুই বছরের দুর্দান্ত ফর্ম তামিমকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়। ওয়ানডেতে তাঁর ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৩৩.৪৩, সেখানে এই সংস্করণে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে এ পর্যন্ত তাঁর গড় ৫৫.২০! শুরুর সেই খেপা তামিম আর এই তামিমে কত পার্থক্য বুঝতে পারছেন তো?
দিন দিন তাঁর কাছে প্রত্যাশাটা যে বেড়েই চলছে, সেটা জানেন তামিমও। জানেন বলেই, এখন তিনিও মুখিয়ে থাকেন সেই আস্থার প্রতিদান দিতে। আয়ারল্যান্ডেই সদ্য সমাপ্ত ত্রিদেশীয় সিরিজের চার ম্যাচে তাঁর রান ৬৪, ২৩, ৪৭, ৬৫। এরপর আবার বার্মিংহামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও ৯৩ বলে ১০২ রানের ঝলমলে ইনিংস। সবচেয়ে বড় কথা, সাত বছর আগে সর্বশেষ ইংল্যান্ড সফর থেকে দারুণ কিছু স্মৃতি নিয়ে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। সেই স্মৃতির কিছুও যদি এবার ফিরিয়ে আনতে পারেন তামিম, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিটা স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশের জন্য।
নেহাতই এক প্রস্তুতি ম্যাচ। তারপরও ভারতের বিপক্ষে ৮৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়াটা মেনে নেওয়া বেশ কষ্টকরই। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মূল লড়াই শুরু হওয়ার ঠিক আগে আত্মবিশ্বাসবিনাশী এক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। তিন ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে ফেরা। এত দিন রানের ফুলঝুরি ছোটানো ব্যাটসম্যানদের এই পারফরম্যান্স কিন্তু শঙ্কিত করছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
তবে কি ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোনো আশা নেই বাংলাদেশের? কাল ওভালের প্রস্তুতি ম্যাচে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে লড়াই করা মেহেদী হাসান মিরাজের ভাবনাটা অবশ্য এতটা নেতিবাচক নয়। তিনি মনে করেন, ‘মূল প্রতিযোগিতায় এমন কিছু হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই।’
মিরাজ ব্যাপারটিকে দেখছেন এভাবে, ‘আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। ৮৪ রানে অলআউট হয়ে দলের সবার মন খারাপ ঠিকই। কিন্তু আত্মবিশ্বাসটা হারিয়ে যায়নি। আজকের দিনটা আমাদের খারাপ গেছে। তবে মূল প্রতিযোগিতায় এমনটা হবে না বলেই মনে করি।’
ভুবনেশ্বর কুমার, উমেশ যাদবদের বোলিং শুরুর দিকে সামলানোটা একটু কঠিনই ছিল বলে জানিয়েছেন মিরাজ। তবে ব্যাপারটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না তিনি, ‘ইনিংসের শুরুতে বলের মুভমেন্ট অনেক বেশি ছিল। বল সুইংও করছিল। তবে বল যখন পুরোনো হয়ে গেছে, তখন সমস্যা হয়নি।’
প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি মূল প্রতিযোগিতার আগে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই দাবি মিরাজের, ‘এই কন্ডিশনে খেললে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। এখানে পেসাররা যথেষ্টই সুবিধা পায়। আমি মনে করি, প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা আসল ম্যাচে কাজে লাগবে।’
অনেকেই নামাজ আদায় করে না। কিন্তু রমজান মাস আসলে ঠিকই রোজা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো যারা নামাজ না পড়ে শুধু রোজা পালন করে, তাদের রোজা কবুল হবে কিন।
চলুন বুখারী শরীফ এবং মুসলীম শরীফের আলোকে জেনে নিই।
বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:
( ﻣَﻦْ ﺗَﺮَﻙَ ﺻَﻼﺓَ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮِ ﻓَﻘَﺪْ ﺣَﺒِﻂَ ﻋَﻤَﻠُﻪُ )
“যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ত্যাগ করে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়। ” [ বুখারী – ৫২০ ]
“তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়” এর অর্থ হল: তা বাতিল হয়ে যায় এবং তা তার কোনো কাজে আসবে না। এ হাদিস প্রমাণ করে যে, বেনামাজির কোনো আমল আল্লাহ কবুল করেন না এবং বেনামাজি তার আমল দ্বারা কোন ভাবে উপকৃত হবে না। তার কোনো আমল আল্লাহর কাছে উত্তোলন করা হবে না।
ইবনুল কায়্যিম তাঁর ‘আস-স্বালাত’ নামক গ্রন্থের ৬৫ পৃষ্ঠায় এ হাদিসের মর্মার্থ আলোচনা করতে গিয়ে বলেন–
বেনামাজি ব্যক্তি দুই ধরণের-
(১) পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করা। কোন নামাজই না-পড়া। এ ব্যক্তির সমস্ত আমল বিফলে যাবে।
(২) বিশেষ কোন দিন বিশেষ কোন নামাজ ত্যাগ করা। এক্ষেত্রে তার বিশেষ দিনের আমল বিফলে যাবে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে সালাত ত্যাগ করলে তার সার্বিক আমল বিফলে যাবে। আর বিশেষ নামাজ ত্যাগ করলে বিশেষ আমল বিফলে যাবে। ” ।
“ফাতাওয়াস সিয়াম” (পৃ-৮৭) গ্রন্থে এসেছে শাইখ ইবনে উছাইমীনকে বেনামাযীর রোজা রাখার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো তিনি উত্তরে বলেন:
“বেনামাযীর রোজা শুদ্ধ নয় এবং তা কবুলযোগ্য নয়। কারণ নামায ত্যাগকারী কাফের, মুরতাদ। ”
এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে-
আল্লাহ্ তাআলার বাণী:
[ ﻓَﺈِﻥْ ﺗَﺎﺑُﻮﺍ ﻭَﺃَﻗَﺎﻣُﻮﺍ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﻭَﺁﺗَﻮُﺍ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻓَﺈِﺧْﻮَﺍﻧُﻜُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪِّﻳﻦِ ][ ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ : 11 ]
“আর যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয় তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই। ” [ সূরা তওবা: ১১]
নবী ﷺ এর বাণী:
( ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺸِّﺮْﻙِ ﻭَﺍﻟْﻜُﻔْﺮِ ﺗَﺮْﻙُ ﺍﻟﺼَّﻼﺓِ ) ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ( 82 )
“কোন ব্যক্তির মাঝে এবং শির্ক ও কুফরের মাঝে সংযোগ হচ্ছে সালাত বর্জন। ”[ সহিহ মুসলিম ৮২]
এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী –
( ﺍﻟْﻌَﻬْﺪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺑَﻴْﻨَﻨَﺎ ﻭَﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﺍﻟﺼَّﻼﺓُ ﻓَﻤَﻦْ ﺗَﺮَﻛَﻬَﺎ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﻔَﺮَ ) ( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ( 2621 ) . ﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ )
“আমাদের ও তাদের মধ্যে চুক্তি হলো নামাযের। সুতরাং যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করল, সে কুফরি করল। ” [
জামে তিরমিযী (২৬২১), আলবানী ‘সহীহ আত-তিরমিযী’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলে চিহ্নিত করেছেন]
এই মতের পক্ষে সাহাবায়ে কেরামের ‘ইজমা’ সংঘটিত না হলেও সর্বস্তরের সাহাবীগণ এই অভিমত পোষণ করতেন।
প্রসিদ্ধ তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনে শাক্বিক রাহিমাহুমুল্লাহ বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণ নামায ছাড়া অন্য কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফরি মনে করতেন না। ”
পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি রোজা রাখে; কিন্তু নামায না পড়ে তবে তার রোজা প্রত্যাখ্যাত, গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা কেয়ামতের দিন আল্লাহ্র কাছে কোন উপকারে আসবে না। আমরা এমন ব্যক্তিকে বলবো: আগে নামায ধরুন, তারপর রোজা রাখুন। আপনি যদি নামায না পড়েন, কিন্তু রোজা রাখেন তবে আপনার রোজা প্রত্যাখ্যাত হবে; কারণ কাফেরের কোন ইবাদত কবুল হয় না। ”
গোসল ফরয হলে কি অবশ্যই গোসল করে সেহরী খেতে হবে, নাকি পরে গোসল করলেও চলবে? সেহেরী খেয়ে ঘুমানোর পর স্বপ্নদোষ হলে রোযা কি ভেঙ্গে যায় অথবা মাকরূহ হয়?
উত্তর : যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর। দুরুদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল (সা) এর উপর। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। সেহেরী খেয়ে ঘুমানোর পর স্বপ্নদোষ হলে রোযা ভেঙে যায় না, রোজার কোনই ক্ষতি হয় না।
আর, গোসল ফরয হলে গোসল করে সাহরি খাওয়া উত্তম, তবে সময় যদি কম থাকে তবে সাহরি খেয়ে নিয়ে পরে গোসল করলেও কোন সমস্যা নাই। আশা করি উত্তর পেয়েছেন আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন।
রমজান মাসে যারা অসুস্থ বা পীড়িত, অতিশয় বৃদ্ধ, যাদের দৈহিক ভীষণ দুর্বলতার কারণে রোজা পালন করা খুবই কষ্টদায়ক হয় এবং যারা ভ্রমণে থাকার কারণে সিয়াম পালন করতে পারে না, তাদের জন্য রোজার কাজা, কাফফারা ও ফিদ্ইয়া ইত্যাদি ব্যবস্থা স্থির করে ইসলামি শরিয়তে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান রয়েছে।
এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। এটা (সিয়াম) যাদের অতিশয় কষ্ট দেয়, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ‘ফিদ্ইয়া’ অর্থাৎ একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে, তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। ‘যদি তোমরা উপলব্ধি করতে তবে বুঝতে সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণপ্রসূ।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৪)
যেসব কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে কিন্তু পরে কাজা করতে হয় তা হচ্ছে;
১. মুসাফির অবস্থায়।
২. রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে।
৩. মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে।
৪. এমন ক্ষুধা বা তৃষ্ণা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে।
৫. শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে।
৬. কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে।
৭. মহিলাদের মাসিক হায়েজ-নেফাসকালীন রোজা ভঙ্গ করা যায়।
যেসব কারণে শুধু কাজা আদায় করতে হয় (অর্থাৎ একটির পরিবর্তে একটি):
১. স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শ করার কারণে যদি বীর্যপাত হয়।
২. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে।
৩. পাথরের কণা, লোহার টুকরা, ফলের বিচি গিলে ফেললে।
৪. ডুশ গ্রহণ করলে।
৫. নাকে বা কানে ওষুধ দিলে (যদি তা পেটে পৌঁছে)।
৬. মাথার ক্ষতস্থানে ওষুধ দেওয়ার পর যদি তা মস্তিষ্কে বা পেটে পৌঁছে।
৭. যোনিপথ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সহবাস করার ফলে বীর্য নির্গত হলে।
৮. স্ত্রী লোকের যোনিপথে ওষুধ দিলে।
উল্লেখ্য, রমজান মাস ছাড়া অন্য সময়ে রোজা ভঙ্গের কোনো কাফফারা নেই, শুধু কাজা আছে।
যেসব কারণে কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হয় (অর্থাৎ একটির পরিবর্তে ১+৬০= ৬১টি রোজা রাখতে হবে):
১. রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।
২. রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে।
কাফফারা আদায়ের উপায়-
কাফফারা তিন উপায়ে আদায় করা যায়। প্রথমত, একটি গোলাম আজাদ করা বা দাসমুক্ত করা; দ্বিতীয়ত, বিরতিহীনভাবে ৬০টি রোজা পালন করা।
কাফফারার রোজার মাঝে বিরতি হলে বা ভাঙলে আরেকটি কাফফারা ওয়াজিব হয়ে যাবে। তৃতীয় হলো ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা ভালোভাবে আহার করানো বা আপ্যায়ন করা।
রোজার ফিদ্ইয়া:
কারও পক্ষে রোজা রাখা দুঃসাধ্য হলে একটা রোজার পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে অন্নদান করা কর্তব্য। শরিয়ত মোতাবেক রোজা পালনে অক্ষম বা সামর্থ্যহীন হলে প্রতিটি রোজার জন্য একটি করে ‘সাদাকাতুল ফিতর’-এর সমপরিমাণ গম বা তার মূল্য গরিবদের দান করাই হলো রোজার ‘ফিদ্ইয়া’ তথা বিনিময় বা মুক্তিপণ। অতিশয় বৃদ্ধ বা গুরুতর রোগাক্রান্ত ব্যক্তি, যার সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই অথবা রোজা রাখলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে, তারা রোজার বদলে ফিদ্ইয়া আদায় করবে। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তি যদি সুস্থ হয়ে রোজা রাখার মতো শক্তি ও সাহস পায়, তাহলে তার আগের রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তখন আগে আদায়কৃত ফিদ্ইয়া সাদকা হিসেবে গণ্য হবে।
অসুস্থ ব্যক্তি ফিদ্ইয়া বা মুক্তিপণ আদায় না করে মারা গেলে তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে ফিদ্ইয়া আদায় করা কর্তব্য; যদি মৃত ব্যক্তি অসিয়ত করে যায়। অন্যথায় আদায় করা মুস্তাহাব।
উল্লেখ্য, প্রতিটি রোজার ফিদ্ইয়া হলো একটি সাদাকাতুল ফিতর দরিদ্র এতিম বা মিসকিনকে দান করা অথবা একজন ফকির বা গরিবকে দুই বেলা পেট পুরে খাওয়ানো। অনেক জায়গায় দেখা যায় গরিব লোক কোনো ধনীর বদলি রোজা পালন করে দিচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই একজনের রোজা অন্যজন বদলি হিসেবে পালন করতে পারবে না।
কেউ কারও রোজা বদলি হিসেবে রাখলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তা শুদ্ধ হবে না।
রোজার ফিদ্ইয়া গুনাহমাফির মাধ্যমে মানুষকে নিষ্কলুষ ও নির্ভেজাল করে। বিনা কারণে যে ব্যক্তি একটি রোজা না রাখে এবং পরে যদি ওই রোজার পরিবর্তে সারা বছরও রোজা রাখে, তবু সে ততটুকু সওয়াব পাবে না, যতটুকু মাহে রমজানে ওই একটি রোজা পালনের কারণে পেত। এ সম্পর্কে ফিকহবিদদের মতে, দুই মাস একাধারে রোজা রাখলে স্বেচ্ছায় ভাঙা একটি রোজার কাফফারা আদায় হয়। এ কাফফারার বিনিময়ে একটি রোজার ফরজের দায়িত্বটাই কেবল আদায় হয়।
আর যারা নানা অজুহাতে ও স্বেচ্ছায় পুরো মাহে রমজানের রোজা রাখে না, তাদের শাস্তি কত যে কঠিন হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গকারীদের ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মাহে রমজানের এক দিনে রোজা কোনো ওজর বা অসুস্থতা ব্যতীত ভঙ্গ করবে, সারা জীবনের রোজাও এর ক্ষতিপূরণ হবে না, যদি সে সারা জীবনও রোজা রাখে।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদ)
ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখলে যে কঠিন শাস্তির হুকুম এসেছে, সেই ব্যক্তি ইহকালে তা না পেলেও পরকালে জাহান্নামের দাউ দাউ অগ্নিকুণ্ডে তার শাস্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ; তাই রমজান মাসে রোজার সংখ্যা পূরণ করাই অধিকতর শ্রেয় ও কল্যাণকর।
জাহান্নামের আগুন প্রতিরোধের ঢাল হচ্ছে রোজা। হাদিসের ভাষ্যমতে রোজা মুমিনের ঢাল। শয়তানের কুমন্ত্রণা প্রতিহত এবং নিজের নফসকে দমন করার জন্য পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনা অন্যতম। রোজার মাধ্যমে নফস দমিত হয়। শয়তান হয় পরাভূত।
শয়তানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত মুমিনের ঢাল রোজা। এই ঢাল যেন অক্ষুন্ন থাকে ইসলামিক স্কলাররা সে নিমিত্ত ছয়টি গুণের কথা বলেছেন। রোজাদাররা এই গুণগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারলে তার রোজা হবে নির্মল, নিষ্কলুষ। তা দ্বারা শয়তানের চক্রান্তকে নিমিষেই প্রতিহত করা সম্ভব হবে।
পবিত্র কোরআনে শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। কারণ সে প্রতিনিয়ত গভীর সব যড়ষন্ত্রের মাধ্যমে মানুষকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিতে বদ্ধপরিকর।
শয়তানকে পরাভূত করে জান্নাতের দিকে এগিয়ে যেতে শয়তানের সঙ্গে মানুষের লড়াই একটি সাধারণ ব্যাপার। এতে কেউ হারে, কেউ জিতে যায়।
১/ নজরের হেফাজত বা চোখের যথাযথ ব্যবহার। অপাত্রে দৃষ্টিদান থেকে বিরত থাকা এর মূল উদ্দেশ্যে। হাদিসের ভাষ্যমতে, বদনজর শয়তানের একটি বিষাক্ত তীর। তা দিয়ে সে মানুষকে ঘায়েল করে। নজরের হেফাজত করলে ঈমানের স্বাদ লাভ করা যায়।
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘অন্য নারীর প্রতি কুদৃষ্টি ইবলিশের বিষাক্ত তীরতুল্য। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে তা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে ঈমানের মিষ্টতা দান করেন।’ -ইতিলাকুল কুলুব: ২৭৩
২/ জবানের হেফাজত। নিজের মুখ দিয়ে অন্য কাউকে কোনো ধরনের কষ্ট না দেওয়া অন্যতম মহৎ গুণ। অন্য কাউকে গালি দেওয়া, অশ্লীল কথা বলা, পরনিন্দা বা গীবত করা সবই এর অন্তর্ভুক্ত। এমনকি মুখ ভেংচি কেটে কারও মনে আঘাত করাও এর আওতাধীন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যার হাত এবং জবানের অনিষ্ট থেকে মুসলিম মুক্ত থাকে সেই প্রকৃত মুসলিম।’ -মুসনাদে আহমাদ: ৬৫১৫
৩/ কানের হেফাজত। ইচ্ছাপূর্বক নিষিদ্ধ শব্দতরঙ্গ শ্রবণ থেকে নিজের কানকে পবিত্র রাখা এর উদ্দেশ্য। গীবত কিংবা পরনিন্দাও এর আওতাভুক্ত। পরনিন্দা করা যেমন গোনাহ, ঠিক তেমনি তা শোনাও পাপ। সূরা মায়িদার বেয়াল্লিশ নম্বর আয়াতে মিথ্যা কথা শোনার অসারতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৪/ উল্লিখিত অঙ্গগুলোসহ শরীরের অন্যসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর হেফাজত করা। শরীরের যাবতীয় অঙ্গগুলোকে মহান আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক পরিচালনা করা এবং যাবতীয় নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুশীলন করা। একটি মাস যদি এই অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে আশা করা যায় যে; বাকি এগারো মাসও এই ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
৫/ অতি ভোজন পরিহার করা। নফসকে দমন করার জন্য রোজা অন্যতম হাতিয়ার। শুধু রোজা কেন বছরের কোনো সময়ই অতি ভোজন কল্যাণকর নয়। শরীরের জন্যও নয়, আত্মার জন্যও নয়। পরিমিত আহার সুস্থতার চাকিকাঠি। প্রয়োজনীয় আহারের বাইরে যা কিছু হয় তাই অপব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। আর স্বভাবতই অপচয় একটি বর্জনীয় কর্ম। পবিত্র কোরআনে অপব্যয়কারীকে শয়তানের সহোদর আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
৬/ রোজা কবুল হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে অন্তরে ভয় জাগ্রত রেখে আল্লাহর রহমতের কামনা করা। কোনো মানুষ শুধু নিজের আমলের দ্বারা জান্নাতের উপযুক্ত হতে পারে না। এ জন্য চাই মহান রবের অপার দয়া-অনুগ্রহ। আবার শুধু তার দয়ার আশায় আমল বন্ধ করে দিলেও তার নির্দেশ অমান্য হয়। কারণ তিনি আমলের নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই আমল করার সঙ্গে সঙ্গে তার রহমতের আশা করে যেতে হবে।
প্রথম ভারতীয় ছবি হিসেবে ১৭০০ কোটি রুপি আয় করলো আমির খান অভিনীত ‘দঙ্গল’। নিতেশ তিওয়ারি পরিচালিত ছবিটি চীনে দারুণ ব্যবসা করেছে এবং হলিউড সিনেমাগুলোকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
ভারতীয় সিনেমা বিশ্লেষক রমেশ বালা এক টুইটে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। কুস্তিগির মহাবীর সিং ফোগাতের উপর নির্মিত ছবিটি গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ভারতে মুক্তি পায়। মুক্তির পরপরই সাড়ে তিন শ কোটি রুপি ব্যবসা করে সর্বকালের ব্যবসাসফল বলিউড ছবির তালিকায় জায়গা করে নেয় এ ছবি।
বিশ্বব্যাপী আয়ের দিক থেকে এ মুহূর্তে এগিয়ে রয়েছে ‘দঙ্গল’। চীনের বক্সঅফিসে ৮৮৫ কোটি হাঁকিয়ে এ মুহূর্তে এ সপ্তাহের শীর্ষ ১০ সিনেমার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ছবিটি। এদিকে হঠাৎ চীনের ছবিটির এ দাপটে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে ‘বাহুবলী-২’।
বিশ্বব্যাপী তাদের আয় ১৫০০ কোটির কিছু বেশি। তবে চীনে এখনও ছবিটি মুক্তি পায়নি। ‘দঙ্গল’ ছবিতে আমির ছাড়া অভিনয় করেছেন স্বাক্ষী তালওয়ার, জারা ওয়াসিম, সুহানি ভাতনগর, সানিয়া মালহোত্রাসহ অনেকে।
সূত্র: জি নিউজ
প্রশ্ন : কী কী কারণে রোজা ভঙ্গ হয়?
উত্তর : রোজা ভঙ্গের অনেক কারণ রয়েছে। রোজা নিয়ে যেসব বই রয়েছে বা সিয়ামের আহকাম-সংশ্লিষ্ট যে বইগুলো রয়েছে, সেগুলো থেকে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তারপরও রোজা ভঙ্গের মৌলিক বিষয়গুলো আমরা বলতে পারি।
সিয়াম ভঙ্গের জন্য প্রথমত যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো—স্ত্রী সহবাস অথবা স্বেচ্ছায় যেকোনো ধরনের যৌনকাজে সম্পৃক্ত হওয়া। এটি সিয়াম নষ্ট করে দেয়। তাই কেউ যদি স্বেচ্ছায় কোনো যৌন চাহিদা পূরণ করার জন্য চেষ্টা করেন, সেটা স্ত্রী সহবাস অথবা যেকোনোভাবে হোক না কেন, তাহলে তার সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে পানাহার করা। স্বেচ্ছায় যদি কোনো ব্যক্তি পানাহার করেন, তাহলে তার সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে।
তৃতীয় বিষয়টি একটু দীর্ঘ আলোচ্য বিষয়। সেটা হচ্ছে পানাহারের অর্থ যেখানে পাওয়া যায়, অর্থাৎ যে কাজের মধ্যে পানাহারের অর্থ পাওয়া যায়, সে কাজগুলোও সিয়ামকে নষ্ট করে। যেমন আপনি যদি ধূমপান করেন, তাহলে আপনার সিয়াম নষ্ট হবে। অথবা আপনি কিছু গিলে ফেললেন, যেমন—পাথর বা এই জাতীয় কিছু আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে সিয়াম নষ্ট হবে। তবে যদি থুতু গিলে থাকেন, তাহলে সিয়াম নষ্ট হবে না, কারণ থুতু পানাহারের মতো বিষয় নয়। এটা শরীরের অভ্যন্তরীণ একটা বিষয়।
আর পানাহারের অর্থ নেই যে বিষয়গুলোতে সেগুলো সিয়াম নষ্ট করে না, যেমন—চোখে ড্রপ দিলে, কানে ড্রপ দিলে, ইনসুলিন নিলে, ইনজেকশন নিলে সিয়াম নষ্ট হবে না। কিন্তু পানাহারের অর্থ পাওয়া যায় এমন ইনজেকশন বা স্যালাইন নিলে, যেগুলো খাদ্যের কাজ করে, শক্তিবর্ধক অথবা খাদ্যের ব্যবস্থা আছে, সেই স্যালাইন যদি কেউ নিয়ে থাকেন, তাহলে তার সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে।
তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম, সিয়াম ভঙ্গের মৌলিক বিষয় হচ্ছে তিনটি। প্রথমত, স্ত্রী সহবাসসহ যেকোনো ধরনের যৌনাচার। দ্বিতীয়ত, পানাহার বা খাদ্য গ্রহণ করা। তৃতীয়ত, পানাহারের অর্থ যেগুলোর মধ্যে রয়েছে, সেগুলো সিয়াম নষ্ট করে থাকে।
প্রবাদে আছে, বিপদে পড়লে বাঘে-মহিষেও একঘাটে পানি খায়! ঠিক এই ছবিটিও এমন কথা বলছে। মঙ্গলবার সকালে তেমনি এক ঘটনা ঘটলো কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায়।
ঘূর্ণিঝড় 'মোরা'তে যখন বিধ্বস্ত বাড়ি-ঘর। তখন মানুষগুলো আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর দিকে ছুটছে। যে যার মতো নিরাপদে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ঠিক সে সময় ঘটলো এই ঘটনা!
চারদিকের এই বিপদের মধ্যে তখন একটি হাঁসের বাচ্চা পেল নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সেই আশ্রয়স্থলটি আর কেউ নয়। সেটি হলো- বিড়াল মাসি। বিড়ালটি বুকের মধ্যে নিজের বাচ্চা'র মতো আগলে রেখেছে হাঁসের বাচ্চাটিকে। এটি বিশ্বাস অযোগ্য হলেও বিষয়টি সত্য।
এক ফেসবুক ব্যবহারকারী এই ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, কিছু কিছু ছবির ক্যাপশন দেয়াটা খুবই কঠিন। তার মাঝে এটা একটা। ঘূর্নীঝড় মোরা'র কবলে যখন বাংলাদেশ। প্রানভয়ে মানুষজন চারিদিকে ছুটাছুটি করতেছিলো। ঠিক তখনি একটি বিড়ালের কোলে আরেকটি হাসের বাচ্চা এভাবেই আশ্রয় নিয়েছিলো। ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলাতে।
তবে এই ছবিটার সত্যতা যাচাই করা আমাদের পক্ষ্যে সম্ভব হয়নি।